৮০ বছরেও টম অ্যান্ড জেরির খুনসুটি অটুট
![]() |
| ৮০ বছরেও টম অ্যান্ড জেরির খুনসুটি অটুট |
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে টম অ্যান্ড জেরি। আশি বছর পরও আজ ঠিক একই ধারাবাহিকতায় দর্শকের মন জয় করে আসছে টম অ্যান্ড জেরি কার্টুন।
এক বিড়াল, যে তার বাড়িতে থাকা এক ইঁদুরের যন্ত্রণায় ত্যক্ত-বিরক্ত, ইঁদুর ধরার ফাঁদে পনির রেখে তার শত্রুকে কাবু করার ছক কষে। বুদ্ধিমান ইঁদুরটি কিন্তু বিড়ালের পরিকল্পনা ভন্ডুল করে সফলভাবেই ফাঁদ থেকে তার প্রিয় খাবার সরিয়ে নিয়ে ভরপেটে হেলতে দুলতে সরে পড়ে। প্রায় প্রতিবারের মত একই পরিণতি বিড়ালের পরিকল্পনার: আবারো একটি পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যাওয়ার হতাশায় নিষ্ফল আক্রোশে চিৎকার করতে থাকে বেচারা বিড়াল।
গল্পের পটভূমি পরিচিত হলেও এর পেছনের কাহিনীটা কিন্তু সবসময় একরকম নয়। অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জয় থেকে শুরু করে স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার বিতর্কিত এলাকায় গোপনে কার্টুন তৈরির কাজ - এসবই এ সপ্তাহে আশিতে পা দিতে যাওয়া টম অ্যান্ড জেরিকে বিশ্বের সর্বকালের সবচেয়ে পরিচিত ডুয়েটের একটি হিসেবে পরিচিতি পেতে ভূমিকা রেখেছে।
এই ইঁদুর-বিড়াল যুগলের কাহিনী তৈরির চিন্তাটি আসে যখন এর নির্মাতারা একেবারে খাদের কিনারায় ছিলেন তখন।
এই কার্টুনের নির্মাতা বিল হ্যান্না ও জো বারবেরা কাজ করতেন প্রযোজক সংস্থা এমজিএম'এর অ্যানিমেশন বিভাগে। অন্যান্য অ্যানিমেশন স্টুডিও পর্কি পিগ ও মিকি মাউসের মত সফল কার্টুন তৈরি করতে পারলেও এমজিএম তখনও সাফল্যের মুখ দেখেনি। অনেকটা হতাশা নিয়ে উনুদ্ধ ত্রিশ এ দুই নির্মাতা ভিন্ন কিছু করার চিন্তা করলেন। বারবেরা প্রস্তাব করেন ইঁদুর ও বিড়ালের প্রতিদিনের খুনসুটির কাহিনী নিয়ে অ্যানিমেশন তৈরি করার, যদিও তার আগে অসংখ্যবার এই পটভূমিতে কার্টুন তৈরি করা হয়েছে।
১৯৪০ সালে তারা প্রথমবার প্রকাশ করেন 'পুস গেটস দ্য বুটস।' অভিষেক ছবিটি সফলতা পায় এবং নির্মাতা স্টুডিও সেরা অ্যানিমেটেড শর্টফিল্ম বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পায়। তবে যেই দু'জন অ্যানিমেটর ছবিটি তৈরি করেন তাদেরকে কোনো কৃতিত্ব দেয়া হয়নি। দুই অ্যানিমেটরকে স্টুডিওর ম্যানেজাররা বলেন, তারা যেন নিজেরা সব কৃতিত্ব নেয়ার জন্য উদগ্রীব না হন।
প্রথম পর্বে ইঁদুর ও বিড়ালের নাম জ্যাসপার ও জিঙ্কস থাকলেও পরে তা পরিবর্তিত হয় টম ও জেরিতে।
তাদের মানসিকতার পরিবর্তন হয় টেক্সাসের এক প্রভাবশালী শিল্পপতির চিঠিতে। চিঠিতে ঐ ব্যক্তি জানতে চান 'ইঁদুর-বিড়ালের চমৎকার কার্টুনটি আবার কবে দেখতে পাবো।'
বারবেরার মতে, কার্টুনের চরিত্রগুলো কথা বলবে কি না, তা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি নিজেদের মধ্যে। তবে চার্লি চ্যাপলিনের মত নীরব চলচ্চিত্র দেখে বড় হওয়া নির্মাতারা জানতেন যে কোনো ডায়লগ না থাকলেও একটি চলচ্চিত্রকে যথেষ্ট হাস্যরসাত্মক হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
কার্টুনের চরিত্রদের সব কার্যকলাপকে ফুটিয়ে তোলে স্কট ব্র্যাডলির আবহ সঙ্গীত আর টমের প্রায় মানুষের মত চিৎকারের পেছনে কন্ঠ দেন হ্যান্না নিজে। এরপর দুই দশকে প্রায় ১০০টি ছোট পরিসরের কার্টুন তৈরির পেছনে ছিলেন হ্যান্না ও বারবেরা।
সমৃদ্ধ হাতে আঁকা অ্যানিমেশন ও সূক্ষ্ম খুঁটিনাটি সহ দৃশ্যপট থাকায় সারা বিশ্বেই এই টম অ্যান্ড জেরির সর্বশ্রেষ্ঠ কার্টুন চিত্র। হলিউড ফিচার ফিল্ম ক্যাটাগরিতে সাতটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড পায় এই ফিল্মগুলো।
কার্টুন ইতিহাসবিদ জেরি বেক, যিনি কার্টুন চলচ্চিত্র তৈরির বিভিন্ন ধাপে কাজ করেছেন,তিনি বলেন, "কার্টুনগুলো আপনি যে বয়সে দেখেন, এগুলো কোন সময় তৈরি করা হয়েছে জানলে আপনি অবাক হবেন।"
১৯৫৭ সালে এমজিএম'এর অ্যানিমেশন বিভাগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর হ্যান্না ও বারবেরা নিজেদের প্রযোজনা সংস্থা চালু করেন। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই আসল নির্মাতাদের ছাড়াই টম অ্যান্ড জেরি পুনর্নির্মান করার সিদ্ধান্ত নেয় এমজিএম। ১৯৬১ সালে খরচ বাঁচাতে প্রাগে একটি স্টুডিওকে দিয়ে কাজ করানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
ক্লাসিক কার্টুনগুলোকে প্রথমবার পুনর্নির্মান করেন ডাইচ, আর তিনি জানতেন এর জন্য ফ্যানদের রোষানলে পড়বেন তিনি। তার তৈরি করা ১২টি কার্টুনকে টম অ্যান্ড জেরির ইতিহাসের নিকৃষ্টতম পর্ব হিসেবে গণ্য করা হয়।
এমজিএম স্টুডিওতে টেলিভিশনকে বেশ নেতিবাচকভাবে দেখা হলেও হ্যান্না ও বারবেরা নিজেরা যখন অ্যানিমেশন তৈরি করতে শুরু করেন, তখন টেলিভিশনের জন্য পর্ব বানাতে শুরু করেন। সময় ও খরচ বাঁচাতে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ আকৃতির পর্ব তৈরি করেন তারা নিজেদের অ্যানিমেশন স্টাইলে।
নতুন পর্বগুলো, যেখানে টম ও জেরিকে একে অপরের বন্ধু হিসেবে দেখা যায়, কখনোই আদি পর


No comments