যশোরে ৭ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে - Jashore24.com

শিরোনাম

যশোরে ৭ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে


যশোরের চৌগাছা ও মণিরামপুরে ৭জন হোম কোয়ােরন্টাইনে রাখা হয়েছে। অবশ্য সিভিল সার্জন বলছেন কোয়ারেন্টাইন নয় তাদের বাড়িতে তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

যশোরের চৌগাছায় গত ৭ মার্চ ইতালি থেকে ফেরেন স্বামী-স্ত্রী। তিনদিন শহরে ওই ব্যক্তির বাবার বাড়িতে ছিলেন। এরপর সোমবার (৯ মার্চ) তিনি সস্ত্রীক শ্বশুরবাড়ি ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর মাস্টারপাড়ায় বেড়াতে যান। সেখানে পরদিন বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ওই ব্যক্তির শ্বশুরবাড়িতে একজন স্বাস্থ্য সহকারীর তত্ত্বাবধানে তাদের ১৪ দিনের 'তত্ত্বাবধানে' রাখা হয়েছে।

বিষয়টি মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে চৌগাছায় ছড়িয়ে পড়লে আতংকের সৃষ্টি হয়। পরে বুধবার (১১ মার্চ) ওই ব্যক্তির বাবাসহ পরিবারের ৬ জনকে একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। তবে, ওই দম্পতি বা তার পরিবারের কোনও সদস্যের শরীরে করোনার কোনও লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার।

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার বলেন, সকালেই সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) ফোন করে নিশ্চিত হয়েছি ওই দম্পতির শরীরে করোনার কোনও লক্ষণ পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার ওই ব্যক্তির বাবাসহ ছয়জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টিতে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আমি নিজে গিয়ে তাদের কীভাবে থাকতে হবে সে বিষয়ে বুঝিয়ে এসেছি। তারা নিজেরদের ঘরেই থাকবেন।

তিনি জানান, ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১২টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হাসপাতালে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও র‌্যাপিড রেসপন্স কমিটি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মোবাইলফোনে ওই পরিবারের আরেক ছেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভাই-ভাবি ইতালি থেকে এসেছেন। তাই, একজন ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ১৪ দিনের জন্য তাদের 'হোম কোয়ারেন্টাইনে' থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত সন্দেহে সৌদি ফেরত এক নারীকে দুই সপ্তাহের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। গত সোমবার রাতে ওই নারী গলায় ব্যাথা ও কাশি নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে বিষয়টি কর্তব্যরত চিকিৎসকের নজরে আসে।

এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই নারীকে তার নিজ বাড়িতে দুই সপ্তাহের জন্য কোয়ারেনটাইনে থাকতে বলেন।

তবে, ওই নারীর শ্বাস কষ্ট কিংবা জ্বর না থাকায় আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ।

তিনি বলেন, ওই নারী গত শনিবার সৌদি থেকে দেশে ফিরেছেন। তাকে মাস্ক ব্যবহার এবং ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরে'র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি এই পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান শুভ্রা রানী দেবনাথ।

জানতে চাইলে যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, কোয়ারেন্টাইন বলা যাবে না। যেহেতু শুধুমাত্র আক্রান্তদের সংস্পর্শে অাসলে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হয়। উনারা যাদের সংস্পর্শে ছিলেন, তারাতো রোগী নন। আমরা একে পর্যবেক্ষণে রাখা বলছি।

No comments

close