সাধারণ জ্বর ও করোনার মধ্যে কী পার্থক্য ?
![]() |
| সাধারণ জ্বর ও করোনার মধ্যে কী পার্থক্য ? |
শীত শেষে গরম পড়তে শুরু করেছে। আর এই সময়ে আমাদের সর্দি-কাশি হবে এটাই স্বাভাবিকভাবে মনে করি আমরা। এসব সাধারণ ফ্লুতে আমরা আতঙ্কিত হই না। এসব সাধারণ জ্বরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেই রোগ ভাল হয়ে যায়। এ ধারনা তো আগে ছিল কিন্তু এখন বিশ^জুড়ে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।
এই দুই ধরনের জ্বরের উপসর্গে অনেক মিল থাকায় চিকিৎসকরাও হিমশিম খাচ্ছেন রোগ নির্ণয়ে। তাই এই দুই ধরনের জ্বরের মিল এবং অমিলগুলো সম্পর্কে আমাদের জেনে রাখা দরকার।
সাধারণ জ্বর ও করোনার মধ্যে মিল:
১. দুই ধরনের জ্বরই ভাইরাসবাহিত।
২. দুই রোগই সংক্রমণজনিত।
৩. মানবশরীর থেকেই ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম।
৪. দুই ধরনের জ্বরই সময়মতো সচেতন না হলে বা বড় আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়ার দিকে বাঁক নিতে পারে।
সাধারণ জ্বর ও করোনার মধ্যে অমিল:
১. সাধারণ জ্বর ও করোনা দুটিই ভাইরাসঘটিত অসুখ হলেও দুই অসুখের ভাইরাস সমগোত্রীয় নয়। সাধারণ ফ্লু ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকোপে হয় আর কোভিড-১৯ হয় করোনা গ্রুপের ভাইরাসের কারণে।
২. করোনাভাইরাস ছড়ায় অনেক দ্রুত। তুলনায় ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অনেক ধীরে ছড়ায়।
৩. সাধারণ ফ্লুর ক্ষেত্রে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ২-৩ দিনের মধ্যে অসুখ দেখা দেয়। করোনার ক্ষেত্রে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ৭-১৪ দিনের মধ্যে অসুখ দেখা দেয়।
৪. সাধারণ ফ্লুয়ের ক্ষেত্রে জ্বর ১০৩-১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যেতে পারে, তবে ওষুধের কাজ শুরু হলে তা নামতেও শুরু করে। করোনার ক্ষেত্রে জ্বর প্রবল হলেও নামতে চায় না সহজে। ওষুধও কাজ করে না।
৫. সাধারণ ফ্লু বোঝার জন্য কোনো আলাদা করে পরীক্ষার দরকার পড়ে না। কিন্তু করোনা কি না তা জানতে পলিমারেস চেন রিঅ্যাকশন বা পিসিআর পরীক্ষা করা হয়।
৬. সাধারণ ফ্লুয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাক্সিন রয়েছে। কিন্তু করোনা রোধে কোনো ভ্যাকসিনের সন্ধান এখনও পাননি গবেষকরা।
তাই করণীয় হিসেবে সচেতন থাকার কোন বিকল্প নেই।


No comments